ATN
শিরোনাম
  •  

ভয়াবহ দূর্ঘটনায় একই পরিবারে ৪ জন নিহত, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট হোসাইন

         
ভয়াবহ দূর্ঘটনায় একই পরিবারে ৪ জন নিহত, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট হোসাইন

ভয়াবহ দূর্ঘটনায় একই পরিবারে ৪ জন নিহত, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছোট্ট হোসাইন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় বসে আছেন আব্দুল হক। চোখে-মুখে উৎকণ্ঠার ছাপ। তাঁর সাত বছর বয়সী নাতি হোসাইন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে হাসপাতালের শয্যায়। গত সোমবার ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় হোসাইনের মা, নানি ও দুই মামা নিহত হয়েছেন।

একই দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হোসাইন এখনও অচেতন। পরিবারটির শোকের সঙ্গে যোগ হয়েছে চিকিৎসা ব্যয়ের অনিশ্চয়তা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই হোসাইন প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরলেও চিৎকার করে ওঠে। শিশুটি এখনও জানে না, তার মা আয়েশা খাতুন (২৮), নানি নূর জাহান বেগম (৫০) এবং দুই মামা মো. আরিফ ইসলাম (২৫) ও রাকিবুল ইসলাম (১৮) আর বেঁচে নেই।

গত সোমবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন আরিফ ইসলাম। পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হন এবং আহত হয় দুই শিশু। তাঁদের গ্রামের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে।

দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের মধ্যে তিন বছর বয়সী তাসনিয়া বর্তমানে শঙ্কামুক্ত। তবে তার বড় ভাই হোসাইনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

হোসাইনের দাদা আব্দুল হক বলেন, “আমার নাতির অবস্থা খুব খারাপ। আমরা গরিব মানুষ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে, কিন্তু আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য সবার সহযোগিতা চাই।”

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর প্রথমে হোসাইনকে যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ঢাকায় পাঠানোর কথা বলেন। গত বুধবার দিবাগত রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শিশুটির বাবা ইলিয়াস বলেন, “আমি কৃষক ও দিনমজুর। একদিকে স্ত্রীকে হারিয়েছি, অন্যদিকে ছেলেকে বাঁচানোর লড়াই করছি। মেয়েটা শঙ্কামুক্ত হলেও ছেলের মাথায় গুরুতর আঘাত, পা ভেঙে গেছে এবং চোখের অবস্থাও ভালো নয়। টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে বেডও পাইনি। ভালো চিকিৎসা পেলে হয়তো আমার ছেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারত। এখন বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।”

হাসপাতালে হোসাইনের পাশে রয়েছেন তার বড় চাচা আলতাফ হোসেন, আরেক চাচা আলমগীর হোসেন, দাদা এবং কয়েকজন স্বজন। চিকিৎসা ও থাকা-খাওয়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুর বড় চাচা আলতাফ হোসেন বলেন, “ও বেঁচে আছে, কিন্তু চোখ খুলছে না। প্রতিদিন শুধু ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। আল্লাহ যেন আমাদের সন্তানটাকে ফিরিয়ে দেন। আমরা শ্রমিক মানুষ, চাষাবাদ করে সংসার চালাই। এখন সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

শিশুটির আরেক চাচা আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে হোসাইন পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তার ডান চোখের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না পেলে চোখটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

একই পরিবারের চারজনকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। সেই শোকের মাঝেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা হোসাইনকে ঘিরে তাদের সব আশা-ভরসা। পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহায়তায় শিশুটি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ