ATN
শিরোনাম
  •  

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব আলোচনা স্থগিত করল ইরান

         
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব আলোচনা স্থগিত করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব আলোচনা স্থগিত করল ইরান

লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সব ধরনের শান্তি আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করেছে ইরান। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানসংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সংলাপ ও খসড়া চুক্তি সংক্রান্ত যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

ইরানের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। আলোচনা স্থগিত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জুলাই ডেলিভারির ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৫৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনই আলোচনায় বিরতির অন্যতম প্রধান কারণ। তেহরানের মতে, লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, যা বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সব ধরনের আলোচনা ও বার্তা বিনিময় স্থগিত করেছে ইরানের আলোচক দল।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক যেকোনো পদক্ষেপে হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানায় তেহরান।

নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আমরা জোর দিয়ে বলছি, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যেকোনো চুক্তির জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি একটি অপরিহার্য শর্ত।

ইরানের এমন অবস্থানের দিনেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলীতে বিমান হামলার নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, এখন আমার নির্দেশ হলো হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে দখল আরও জোরালো ও সম্প্রসারিত করা।

হিজবুল্লাহকে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে ইসমাইল বাঘাই বলেন, জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন ও লেবাননকে সমর্থন জোগাতে ইরান সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ