ATN
শিরোনাম
  •  

জয়পুরহাটে কিস্তির টাকা না পেয়ে নারীকে এনজিও কার্যালয়ে আটকে রাখার অভিযোগ

         
জয়পুরহাটে কিস্তির টাকা না পেয়ে নারীকে এনজিও কার্যালয়ে আটকে রাখার অভিযোগ

জয়পুরহাটে কিস্তির টাকা না পেয়ে নারীকে এনজিও কার্যালয়ে আটকে রাখার অভিযোগ

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় ঈদের টানা ছুটির মধ্যেই এক নারী সদস্যকে বাড়ি থেকে তুলে এনে জেআরডিএম নামে একটি এনজিও কার্যালয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মোছা. আলপনা বেগম (৫০) উপজেলার আউড়া কালিমহুর এলাকার দিনমজুর মো. বাবলু সরকারের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে জেআরডিএম’র কালাই শাখা থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন, যার বিপরীতে মাসে ৮ হাজার ৫০০ টাকা করে কিস্তি দিতে হয় তাকে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি এ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পাঁচটি কিস্তি পরিশোধ করলেও গত দুই মাস ধরে আর্থিক সংকটের কারণে কিস্তি দিতে পারেননি। এরই মধ্যে ঈদের টানা ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও এনজিও কর্তৃপক্ষ বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার বিকেলে এনজিওর এক নারী মাঠকর্মী জাহানারা বেগম কৌশলে ভুক্তভোগীকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কালাই পৌর এলাকার এনজিও কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তাকে সেখানে আটক রাখা হয় এবং বকেয়া কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর ছেলে আজিজার রহমান জানান, তার মায়ের আটকের খবর পেয়ে তিনি কয়েকদিন সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ তা না মেনে টাকা পরিশোধ ছাড়া মাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তাকে ফোন করে জানানো হয়, টাকা না দিলে পুলিশে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চাকরির বেতন না পাওয়ায় তারা অর্থ সংকটে আছেন এবং ঈদের সময় কিস্তি দিতে পারেননি। বাধ্য হয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে পরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন এনজিও কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগের ব্যাপারে এনজিওর শাখা ব্যবস্থাপক আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বন্ধের দিনে তাকে অফিসে আনা ঠিক হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে এনজিওর এরিয়া ব্যবস্থাপক মো. আরমান হোসেন সরকার দাবি করেন, বকেয়া আদায়ের জন্যই তাকে অফিসে আনা হয়েছিল এবং টাকা পরিশোধ করলে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হতো। তিনি আরও বলেন, ঋণ আদায়ের জন্য তাদের ওপর হেড অফিসের চাপ রয়েছে।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, কাউকে এভাবে আটক করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট এনজিওর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/মা. হা
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ