ATN
শিরোনাম
  •  

ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের গুঞ্জন, দেশটির প্রশাসনে কার ক্ষমতা কতটুকু

         
ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের গুঞ্জন, দেশটির প্রশাসনে কার ক্ষমতা কতটুকু

ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের গুঞ্জন, দেশটির প্রশাসনে কার ক্ষমতা কতটুকু

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তা ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করেছে তেহরান। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ইরানের ক্ষমতার জটিল কাঠামো। দেশটিতে আসলে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা কার হাতে-প্রেসিডেন্ট, আইআরজিসি নাকি সর্বোচ্চ নেতা?

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্র থাকেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। চলতি বছরের ফ্রেবুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বর্তমানে এই পদে রয়েছেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, তিনিই সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং যুদ্ধ, শান্তি ও রাষ্ট্রের কৌশলগত নীতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এবং আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ক্ষমতাও তার হাতেই। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের ক্ষমতাও রয়েছে সর্বোচ্চ নেতার।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন নির্বাচিত নির্বাহী প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভা পরিচালনা, অর্থনীতি, বাজেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের। তবে পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাকে সর্বোচ্চ নেতার নির্ধারিত নীতির মধ্যেই কাজ করতে হয়। ফলে ইরানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত।

দেশটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত এই বাহিনী এখন শুধু সামরিক শক্তিই নয়, বরং অর্থনীতি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও আঞ্চলিক রাজনীতিতেও বিশাল প্রভাব বিস্তার করছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার কাজেও মূল ভূমিকা পালন করে আইআরজিসি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর আইআরজিসির প্রভাব আরও বেড়েছে। এমনকি কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখন আইআরজিসির ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

সব মিলিয়ে, ইরানে প্রশাসনিকভাবে প্রেসিডেন্ট সরকার পরিচালনা করলেও রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকে সর্বোচ্চ নেতার হাতে। আর বাস্তব নিরাপত্তা ও সামরিক প্রভাবের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আইআরজিসি। ফলে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই এই তিন শক্তির পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।

রিপোর্ট : রা. মু/মা. হা
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ