ATN
শিরোনাম
  •  

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৮

         
পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৮

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডব

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যজুড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে শক্তিশালী ঝড়-বৃষ্টি। এর ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং সড়ক, রেল ও বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

ঝড়ের তীব্রতায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও দেয়াল। কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের সময় কলকাতায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার।

রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, পার্ক স্ট্রিট, রবীন্দ্র সরোবর ও নেতাজি নগরসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ ও দমকল বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে।

ঝড়ের প্রভাবে শিয়ালদহ ও হাওড়া রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। একাধিক স্থানে ওভারহেড তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে রেলসেবা বন্ধ রাখতে হয়। একই সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরেও কিছু সময়ের জন্য উড়োজাহাজ ওঠানামা ব্যাহত হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতায় ঝড়-সংক্রান্ত ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চক্ররেলের ওভারহেড লাইনে গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এছাড়া চেতলা এলাকায় দেয়াল ধসে প্রাণ হারান রবিন কুমার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে তিনজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক সাইকেল আরোহী, এক যুবক এবং মাঠে কাজ করা এক কৃষক।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়ের সময় নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রামে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে একজনের প্রাণহানি ঘটে। হুগলিতে ঝড়ের পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঝড়ের কারণে কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের জন্য চার লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস

পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ