ATN
শিরোনাম
  •  

মমিনহাটা গ্রামে গলাকেটে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

         
মমিনহাটা গ্রামে গলাকেটে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

মমিনহাটা গ্রামে গলাকেটে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটা গ্রামে গলাকেটে গৃহবধূ রিতা মজুমদারকে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমি বিক্রির টাকা লুটের পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ সোমবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মমিনহাটা পূর্বপাড়ার ফরিদ প্রামানিকের ছেলে শাওন মিয়া (২০) এবং একই এলাকার মোকলেছের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তারা দুজনেই পেশায় দিনমজুর।

পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, গত ২০ মে রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বিধান মজুমদার রাতের খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি শব্দ শুনে বিধান মজুমদারের ঘুম ভাঙে।

কয়েকমিনিট পর স্ত্রীর কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন, দরজা খোলা এবং রিতা মজুমদার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। পরে স্থানীয়রা ডাকাডাকি করলে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর গাবতলী থানা-পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে শনিবার রাতে শাওন মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

পুলিশ সুপার দাবি করেন, জিজ্ঞাসাবাদে শাওন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আনোয়ার হোসেনের নাম প্রকাশ করেন। পরে পুলিশ আনোয়ারকেও গ্রেপ্তার করে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ বলেন, আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, রিতা মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। এরপর দুজন মিলে টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র কিনে আনেন বলেও জানায় পুলিশ।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তার স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে গেলে দুই আসামি বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত সোয়া ১২টার দিকে শাওন দরজায় ধাক্কা দেন। শব্দ পেয়ে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হলে তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে আনোয়ার তার হাতে থাকা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিতার গলায় কোপ দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত অস্ত্র দুটি বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ