ঈদযাত্রা: কমলাপুরে বাড়ছে ঘরমুখী মানুষের ভিড়, টিকিট ছাড়া প্রবেশে কড়াকড়ি
আর মাত্র চার দিন পর ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের নাড়ির টানে ঘরে ফেরার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। যাত্রীরা যারা ১৩ মে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তারা আজ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। যদিও এখনো সরকারি ছুটি শুরু হয়নি, তবুও অনেকেই আগেভাগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। এদিকে টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনে প্রবেশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রবেশপথে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বুথ বসানো হয়েছে। পাশাপাশি মূল ফটকে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে, যার মধ্য দিয়েই যাত্রীদের প্রবেশ করতে হচ্ছে।
স্টেশনে প্রবেশের আগে প্রথম ধাপে টিটিরা যাত্রীদের টিকিট যাচাই করছেন। পরে প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগে দ্বিতীয়বারও টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাঁদের টিকিট নেই, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কমলাপুর স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে অন্তত ৯টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেলেও কয়েকটি ট্রেন দেরিতে যাত্রা শুরু করেছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। তিস্তা এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৭টার পরিবর্তে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও তখন পর্যন্ত কমলাপুরে পৌঁছায়নি উত্তরাঞ্চলগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সারা দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মোট ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৪৩টি আন্তনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন।
স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ছুটি শুরু হবে ২৫ মে থেকে। ফলে আজ যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাঁদের অধিকাংশই কর্মজীবী মানুষের পরিবার-পরিজন, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যাঁদের ঈদের আগে জরুরি কাজ কম। তবে অন্য দিনের তুলনায় সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতেও ছিল যাত্রীর বাড়তি চাপ। আসনের অতিরিক্ত অনেক যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করছেন। ফলে ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে অনেককে।
বেসরকারি চাকরিজীবী হুমায়ূন শিকদার পরিবারকে গ্রামের বাড়ি পাঠাতে কমলাপুর স্টেশনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অফিস করতে হবে। এরপর ছুটি পাব। তাই পরিবারের সদস্যদের আগেই ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জ পাঠিয়ে দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত যাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, সামনে পরিস্থিতি কেমন হয় সেটাই দেখার বিষয়।’
বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রী মাসুদ রানা বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের ট্রেন প্রায়ই দেরি করে। সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেন এখনো আসেনি। অনেক কষ্ট করে অনলাইনে টিকিট কেটেছি। সময়মতো ট্রেন না এলে এই গরমে ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনের ছাদেও কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। সকালে কিছু ট্রেন অপারেশনাল কারণে সামান্য দেরিতে ছেড়েছে, তবে বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে।’
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ২৪ মে বিকেল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
শনিবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনে প্রবেশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রবেশপথে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বুথ বসানো হয়েছে। পাশাপাশি মূল ফটকে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে, যার মধ্য দিয়েই যাত্রীদের প্রবেশ করতে হচ্ছে।
স্টেশনে প্রবেশের আগে প্রথম ধাপে টিটিরা যাত্রীদের টিকিট যাচাই করছেন। পরে প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগে দ্বিতীয়বারও টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাঁদের টিকিট নেই, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কমলাপুর স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে অন্তত ৯টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেলেও কয়েকটি ট্রেন দেরিতে যাত্রা শুরু করেছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে সকাল সাড়ে ৭টায়। তিস্তা এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৭টার পরিবর্তে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যায়। অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও তখন পর্যন্ত কমলাপুরে পৌঁছায়নি উত্তরাঞ্চলগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সারা দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মোট ৫৫টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৪৩টি আন্তনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন।
স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ছুটি শুরু হবে ২৫ মে থেকে। ফলে আজ যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাঁদের অধিকাংশই কর্মজীবী মানুষের পরিবার-পরিজন, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যাঁদের ঈদের আগে জরুরি কাজ কম। তবে অন্য দিনের তুলনায় সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতেও ছিল যাত্রীর বাড়তি চাপ। আসনের অতিরিক্ত অনেক যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করছেন। ফলে ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে যাত্রা করতে দেখা গেছে অনেককে।
বেসরকারি চাকরিজীবী হুমায়ূন শিকদার পরিবারকে গ্রামের বাড়ি পাঠাতে কমলাপুর স্টেশনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত অফিস করতে হবে। এরপর ছুটি পাব। তাই পরিবারের সদস্যদের আগেই ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জ পাঠিয়ে দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত যাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে, সামনে পরিস্থিতি কেমন হয় সেটাই দেখার বিষয়।’
বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রী মাসুদ রানা বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের ট্রেন প্রায়ই দেরি করে। সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেন এখনো আসেনি। অনেক কষ্ট করে অনলাইনে টিকিট কেটেছি। সময়মতো ট্রেন না এলে এই গরমে ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট ছাড়া কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ট্রেনের ছাদেও কাউকে উঠতে দেওয়া হবে না। সকালে কিছু ট্রেন অপারেশনাল কারণে সামান্য দেরিতে ছেড়েছে, তবে বেশির ভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে।’
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন অর্থাৎ ২৪ মে বিকেল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
