ভারতে ‘তেলাপোকা’ পরিচয়ে তরুণদের অনলাইন আন্দোলন, ক্ষোভের প্রতীকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বহু তরুণ-তরুণী নিজেদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। প্রথমে বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ। ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন বেকারত্ব, রাজনৈতিক অবহেলা এবং তরুণদের বঞ্চনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ঘটনার শুরু ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। গত ১৫ মে এক শুনানিতে তিনি বলেন, অনেক তরুণ ‘তেলাপোকার মতো’ বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে অন্যদের আক্রমণ করছে। যদিও তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারীদের সমালোচনা করতে চেয়েছিলেন, তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেকার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এরপর ৩০ বছর বয়সী সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়?’ সেই পোস্ট থেকেই শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা। কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যায়। পরে ভারতের কর্তৃপক্ষ তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করলেও নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে তারা আবারও দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এই আন্দোলনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ভারতের তরুণদের হতাশা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলে আরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বহু তরুণ দীর্ঘদিনেও চাকরি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সরকারি চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, পুলিশ নিয়োগ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে এই হতাশা প্রকাশ করছে। তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে এমন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, ‘যাদের হিসাব রাখতে রাষ্ট্র ভুলে গেছে।’ সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে—যারা বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকেন এবং অভিযোগ করতে পারেন, তারাই যোগ দিতে পারবেন। তবে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার আড়ালে তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিও সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনীতিবিদদের দলবদলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, সংসদে নারীদের ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
ভারতের বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও সমালোচকদের দাবি, এটি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনে পরিচালিত একটি অনলাইন প্রচারণা। তবে অভিজিৎ দীপকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি পুরোপুরি স্বতঃস্ফূর্ত একটি উদ্যোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তরুণরা ‘তেলাপোকা’ শব্দটিকে অপমানের পরিবর্তে প্রতিরোধের প্রতীকে রূপ দিয়েছেন। তাদের বার্তা হলো—রাষ্ট্র গুরুত্ব না দিলেও তারা নীরব থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এখন ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
ঘটনার শুরু ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। গত ১৫ মে এক শুনানিতে তিনি বলেন, অনেক তরুণ ‘তেলাপোকার মতো’ বিভিন্ন পেশায় প্রবেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অ্যাক্টিভিজমের মাধ্যমে অন্যদের আক্রমণ করছে। যদিও তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারীদের সমালোচনা করতে চেয়েছিলেন, তার এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বেকার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এরপর ৩০ বছর বয়সী সাবেক রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলেন, ‘সব তেলাপোকা যদি এক হয়ে যায়?’ সেই পোস্ট থেকেই শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা। কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যায়। পরে ভারতের কর্তৃপক্ষ তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট স্থগিত করলেও নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে তারা আবারও দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এই আন্দোলনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ভারতের তরুণদের হতাশা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলে আরও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বহু তরুণ দীর্ঘদিনেও চাকরি পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সরকারি চাকরির বিভিন্ন পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, পুলিশ নিয়োগ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে এই হতাশা প্রকাশ করছে। তাদের ওয়েবসাইটে নিজেদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে এমন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, ‘যাদের হিসাব রাখতে রাষ্ট্র ভুলে গেছে।’ সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে—যারা বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকেন এবং অভিযোগ করতে পারেন, তারাই যোগ দিতে পারবেন। তবে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার আড়ালে তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবিও সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনীতিবিদদের দলবদলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, সংসদে নারীদের ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
ভারতের বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাও প্রকাশ্যে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও সমালোচকদের দাবি, এটি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনে পরিচালিত একটি অনলাইন প্রচারণা। তবে অভিজিৎ দীপকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি পুরোপুরি স্বতঃস্ফূর্ত একটি উদ্যোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তরুণরা ‘তেলাপোকা’ শব্দটিকে অপমানের পরিবর্তে প্রতিরোধের প্রতীকে রূপ দিয়েছেন। তাদের বার্তা হলো—রাষ্ট্র গুরুত্ব না দিলেও তারা নীরব থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এখন ভারতের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
