ATN
শিরোনাম
  •  

এভাবে চলে যেতে নেই

         
এভাবে চলে যেতে নেই

এভাবে চলে যেতে নেই

কারিনা কায়সারকে আমি প্রথম দেখি বড় পর্দায়। তখনও জানতাম না তিনি দেশের খ্যাতনামা ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে । ‘৩৬-২৪-৩৬’ নামের একটা সিনেমা সিনেপ্লেক্সে রিলিজ পেয়েছিল বছর দুই আগে। সিনেমায় সায়রা চরিত্রে অভিনয় করা মোটাসোটা মেয়েটির অভিনয়গুণ দেখে তার সম্পর্কে আরও ভালোভাবে খোঁজখবর নেই। যা দেখলাম তাতে মাল্টি স্কিলড যাকে বলে, এই মেয়ে তেমন। কায়সার হামিদ ভাইয়ের সঙ্গে পেশাগত কারণেই সুসম্পর্ক। অনেকবার ভেবেছি তাকে বলে তার মেয়ের একটা ইন্টারভিউ করি। হয়ে ওঠেনি। আজ ঘুম থেকে উঠে প্রথম যে দুঃসংবাদটা দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা বিশ্বাস করতে চাইনি। বিশ্বাস করতে পারিনি।

কতই বা বয়স হয়েছিল কারিনার! মাত্র ৩০ বছর! এই বয়সের কোনও সদস্যের মৃত্যু একটা পরিবারকে পুরোপুরি তছনছ করে দেয়। আমি যেটা হাড়ে হাড়ে টের পাই। এই যন্ত্রণা শুধু তারাই বুঝবে যাদের পরিবারের এমন তরতাজা কেউ মারা যায়। সবচেয়ে বড় কষ্ট, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ নেওয়া। আর সেই কষ্টের কাজ করতে হবে কায়সার হামিদ ভাইকে।

লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান শুক্রবার দিবাগত রাতে।

ব্যক্তিগতভাবে এই পরিবারের ওল্ডডিওএইচের বাসায় পেশাগত কারণে অনেকবার যেতে হয়েছে। রানী হামিদ বাংলাদেশের কিংদবদন্তি দাবাড়ু। আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদের নাতনি কারিনা কায়সার। কারিনার দাদা হলেন প্রয়াত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ হামিদ, যিনি দেশের একজন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

ছবি
কারিনার চাচাত বোন সামাহা হামিদ। তার একবার ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। তখন বুঝেছি এই পরিবারের মেয়েরা কতটা ট্যালেন্ট। কতটা ভদ্র। কতটা অমায়িক। ২০১১ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত ৪০তম ইন্টারামনিয়া হ্যান্ডবল ওয়ার্ল্ড কাপে সামাহা বাংলাদেশ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে স্কলাস্টিকা হ্যান্ডবল দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন। সামাহা ঢাকা জেলা জাতীয় হ্যান্ডবল দল এবং তাঁর স্কুল ও ইউনিভার্সিটি দলের অধিনায়ক ছিলেন।। ২০১১ ও ২০১২ সালে পোলার আইসক্রিম জাতীয় আন্তঃস্কুল হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ‘বেস্ট প্লেয়ার’ হন। তিনি জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ, ফুটবল ও ফুটসাল খেলেছেন। সম্ভবত এখন বিদেশে থাকেন সামাহা। সামাহার বাবা মানে কারিনার চাচা ববি হামিদও একজন খেলোয়াড় ছিলেন।
ঘরোয়া ফুটবলে ১৯৯২ সালে ওয়ারী ক্লাবের হয়ে খেলার সময় এক ঐতিহাসিক গোল করেছিলেন ববি। সে ম্যাচে তাঁর আপন বড় ভাই কায়সার হামিদ খেলছিলেন মোহামেডানের হয়ে। বড় ভাই কায়সারকে কাটিয়ে ববি যে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন, তার ওপর ভর করেই ওয়ারী ১-০ গোলে মোহামেডানকে হারিয়েছিল। ইনজুরির কারণে ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে না পারলেও ববি হামিদ বাংলাদেশ জাতীয় হ্যান্ডবল দলের হয়ে খেলেছেন এবং ব্রাদার্স ইউনিয়নের একজন নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। নিয়তির কি অদ্ভূত মিল! ২০২২ সালের ১৫ জুন ক্যান্সারে ভুগে মারা যান কারিনার চাচা ববি। আর ২০২৬ সালের ১৫ জুন চলে গেলেন কারিনা।

খেলাধুলা করা পরিবারের লিগাসি বহন করলেও কারিনাকে খেলার মাঠে কখনও দেখিনি। তবে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ভ্লগ এবং অভিনয়- এগুলোতে ব্যস্ত থাকতে দেখেছি সামাজিক মাধ্যমে। প্রায় সময় লাইভ করতেন ফেসবুকে। আমি মুগ্ধ হয়ে কথাগুলো শুনতাম। এমন প্রতিভাবান তাজা প্রাণ অকালে চলে যেতে দেখে মনটা অজান্তেই কেঁদে ওঠে। কারিনার জন্য দু ফোটা চোখের জল। নিশ্চয় আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করবেন।

রিপোর্ট : বদিউজ্জামান মিলন/সা.সি
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ