দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে হুনাইন শাহ যখন বোল্ড হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, ধারাভাষ্যকারের কন্ঠে নাহিদ রানাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস। বলে উঠলেন, অ্যাবসুলিট বিউটি। সত্যিকার অর্থেই যেন পিএসএলের ফাইনালে বোলিংয়ে সৌন্দয ছড়ালেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। শুধু তাই নয় পেশোয়ার জালমিকে চ্যাম্পিয়ন করতেও বড় অবদান ছিল নাহিদের। ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাবর আজমের পেশোয়ার জালমি।
‘আমার পাশের এই ছেলেটা পিএসএলে ফিরে এসেই রকেট গতিতে বল করেছে। মাত্র ৩ দিন আগে এসেছে। করাচিতে দেখেছিলাম সে ১৫১ কিমি গতিতেও বল করেছে। ব্যাটারদের জন্য নাহিদ রানা ভয়ংকর। সামনে টেস্ট সিরিজ আছে, বাবর আজম নিশ্চয়ই ওকে ফেইস করতে চাইবে না। ফ্রেন্ডলি রাইভারলি হবে – ম্যাচ শেষে নাহিদ রানাকে নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ছিল তার পেশোয়ার জালমির সতীর্থ অ্যারন হার্ডির।
নাহিদ রানা এখন বিশ্ব ক্রিকেটে সত্যিকারের এক 'রকেট'। পিএসএলের পেশোয়ার জালমির হয়ে তার বোলিং তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। করাচিতে নাহিদ সত্যিই তার অবিশ্বাস্য গতি দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন, যেখানে তাকে নিয়মিত ১৫১ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বা তারও বেশি গতিতে বল করতে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি তো এমনি এমনিই নাহিদ রানার বোলিংয়ের প্রশংসা করেননি!
হার্ডি খুব কাছ থেকে দেখেছেন যে নাহিদ রানার গতি এবং বাউন্স যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটারের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। হার্ডি জানিয়েছেন যে নাহিদ নিয়মিত 'রকেট' গতিতে বল করছেন, যা ব্যাটারদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় দেয় না। ৮ মে থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। হার্ডি মজার ছলে বা 'ফ্রেন্ডলি রাইভারলি' থেকে বলেছেন যে, বাবর আজম নিশ্চয়ই নেটে নাহিদকে ফেস করে যে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, তা থেকে তিনি মূল ম্যাচে নাহিদের এই এক্সপ্রেস গতির মুখোমুখি হতে চাইবেন না। হার্ডি বিশ্বাস করেন নাহিদ রানার এই ক্যালিবার তাকে বিশ্বের যেকোনো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ করে দেবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথেই নাহিদ রানাকে পিএসএলের ফাইনালের জন্য চেয়েছিল পেশোয়ার জালমি। বিসিবির বর্তমান প্রধান তামিম ইকবাল অনুরোধ রেখে বাংলাদেশি পেসারকে ছাড়পত্র দেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেশোয়ারকে চ্যাম্পিয়ন করলেন নাহিদ। তার দারুণ বোলিংয়ে অল্পতে হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে আটকে রেখে ৫ উইকেটে জিতল তার দল। ৯ বছর অপেক্ষার পর দ্বিতীয় শিরোপার দেখা পেল পেশোয়ার।
লাহোরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইয়ুম। নাহিদ রানা ২২ রানে নেন দুই উইকেট। এছাড়া পেশোয়ারের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন ইনিংসের সেরা বোলার হার্ডি।
নাহিদ রানাকে যখন পিএসএলের ড্রাফট থেকে এ বছর কেনা হয় তখনই মনে হয়েছিল নাহিদের ক্যারিয়ারে একটা বিশাল স্টেপিং স্টোন হতে যাচ্ছে। এমনকি নাহিদ যদি খুব ভাল নাও করতে পারতেন তারপরেও পাকিস্তানের পেসবান্ধব পরিবেশ থেকে যে সে তাঁর মেধা, মনন, মানসিকতায় ক্ষুর দিয়ে অন্তত অন্যরককম ক্রিকেটার হয়ে ফিরতেন তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না।
কিন্তু নাহিদ যে শুধু ভালো করেছেন তাই-ই না, বরং তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরে আসছেন। বাংলাদেশের কোনো পেসার বিশ্বমঞ্চে নিজেকে একদম "এক্সপ্রেস পিওর ফাস্ট বোলার" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন সেটাও বিশাল কিছু। "Here comes Nahid rana with his ferocious speed, almost touching 150 km/h"- শুধুমাত্র কোনো একজন বাংলাদেশী ফাস্ট বোলারের বেলায় ধারাভাষ্যকার এমনটা বলবেন, এ যেন যে কোনও বাংলাদেশি দর্শকের জন্যই অন্য রকম গর্বের বিষয়। পিএসএলের মত প্ল্যাটফর্ম নাহিদ কে সেই এলিট টায়ার লিস্টে চোখে আঙুল দিয়ে অন্তত বিশ্বক্রিকেটে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিলো।
শুধুই কি গতি? ক্ষুরধার মস্তিষ্ক না থাকলে গতিও যে মূল্যহীন হয়ে পড়ে! কিন্তু নাহিদ ফাইনাল ম্যাচে বেশ কিছু টেকনিক দেখিয়েছেন যা থেকে মনে হয়েছে ফাস্ট বোলিংয়ের টেকনিক্যাল আর্টটাও রপ্ত করে ফেলেছেন।
নাহিদ তাঁর বোলিং এ একটা "অনিশ্চয়তা ফ্যাক্টর" নিয়ে এসেছেন। ব্যাটসম্যন কে প্রতিমূহূর্ত ভাবাচ্ছেন যে পরের বলটি ইয়র্কার লেন্থ-এ আসবে নাকি প্রচন্ড গতিতে কাঁধ-মাথা বরাবর বাউন্সার আসবে? এবং ওভারের ছয়টি বলের মধ্যে এমনভাবে ইয়র্কার ও বাউন্সারের মিশেল দিয়েছেন যে মাঠে উপস্থিত থাকা বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামও হয়তো নস্টালজিক হয়ে উঠেছিলেন।
ম্যাচের মাঝখানে ওয়াসিম আকরাম তো বলেই দিলেন, নাহিদ এমনভাবে ডিপ মিড অনে ফিল্ডার সেট করেছেন যে ব্যাটসম্যান খানিকটা দ্বিধান্বিত হয়েই ভাববেন যে পরের বলটি ইয়র্কার হওয়ার চান্স বেশি, নাকি বাউন্সার! ব্যাটসম্যান কিন্তু একেবারে সন্দেহমুক্তও হলেন না, পেছনের পা ঠিকই প্রস্তুত রাখলেন বাউন্সার খেলার জন্য। নাহিদ মারলেন কাঁধ বরাবর ১৪৬ গতির বাউন্সার, পরের বলে এবার মারলেন ইয়র্কার- অর্থাৎ ব্যাটসম্যানকে যথেষ্ট গোলকধাঁধায় ফেলার জন্য ফোল্ড চেঞ্জ করে ম্যানিপুলেট করার শিল্পও নাহিদ বেশ ভালভাবেই শিখেছেন।
শেষ কথা চ্যাম্পিয়ন নাহিদ তাঁর কাজ করছেন, কিন্তু চ্যাম্পিয়নকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ নিতে কি প্রস্তুত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড?
রিপোর্ট : ব.মি/জেড.এস
‘আমার পাশের এই ছেলেটা পিএসএলে ফিরে এসেই রকেট গতিতে বল করেছে। মাত্র ৩ দিন আগে এসেছে। করাচিতে দেখেছিলাম সে ১৫১ কিমি গতিতেও বল করেছে। ব্যাটারদের জন্য নাহিদ রানা ভয়ংকর। সামনে টেস্ট সিরিজ আছে, বাবর আজম নিশ্চয়ই ওকে ফেইস করতে চাইবে না। ফ্রেন্ডলি রাইভারলি হবে – ম্যাচ শেষে নাহিদ রানাকে নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ছিল তার পেশোয়ার জালমির সতীর্থ অ্যারন হার্ডির।
নাহিদ রানা এখন বিশ্ব ক্রিকেটে সত্যিকারের এক 'রকেট'। পিএসএলের পেশোয়ার জালমির হয়ে তার বোলিং তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। করাচিতে নাহিদ সত্যিই তার অবিশ্বাস্য গতি দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন, যেখানে তাকে নিয়মিত ১৫১ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বা তারও বেশি গতিতে বল করতে দেখা গেছে। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি তো এমনি এমনিই নাহিদ রানার বোলিংয়ের প্রশংসা করেননি!
হার্ডি খুব কাছ থেকে দেখেছেন যে নাহিদ রানার গতি এবং বাউন্স যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটারের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। হার্ডি জানিয়েছেন যে নাহিদ নিয়মিত 'রকেট' গতিতে বল করছেন, যা ব্যাটারদের প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় দেয় না। ৮ মে থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। হার্ডি মজার ছলে বা 'ফ্রেন্ডলি রাইভারলি' থেকে বলেছেন যে, বাবর আজম নিশ্চয়ই নেটে নাহিদকে ফেস করে যে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, তা থেকে তিনি মূল ম্যাচে নাহিদের এই এক্সপ্রেস গতির মুখোমুখি হতে চাইবেন না। হার্ডি বিশ্বাস করেন নাহিদ রানার এই ক্যালিবার তাকে বিশ্বের যেকোনো বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সুযোগ করে দেবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথেই নাহিদ রানাকে পিএসএলের ফাইনালের জন্য চেয়েছিল পেশোয়ার জালমি। বিসিবির বর্তমান প্রধান তামিম ইকবাল অনুরোধ রেখে বাংলাদেশি পেসারকে ছাড়পত্র দেন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেশোয়ারকে চ্যাম্পিয়ন করলেন নাহিদ। তার দারুণ বোলিংয়ে অল্পতে হায়দরাবাদ কিংসম্যানকে আটকে রেখে ৫ উইকেটে জিতল তার দল। ৯ বছর অপেক্ষার পর দ্বিতীয় শিরোপার দেখা পেল পেশোয়ার।
লাহোরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইয়ুম। নাহিদ রানা ২২ রানে নেন দুই উইকেট। এছাড়া পেশোয়ারের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন ইনিংসের সেরা বোলার হার্ডি।
নাহিদ রানাকে যখন পিএসএলের ড্রাফট থেকে এ বছর কেনা হয় তখনই মনে হয়েছিল নাহিদের ক্যারিয়ারে একটা বিশাল স্টেপিং স্টোন হতে যাচ্ছে। এমনকি নাহিদ যদি খুব ভাল নাও করতে পারতেন তারপরেও পাকিস্তানের পেসবান্ধব পরিবেশ থেকে যে সে তাঁর মেধা, মনন, মানসিকতায় ক্ষুর দিয়ে অন্তত অন্যরককম ক্রিকেটার হয়ে ফিরতেন তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না।
কিন্তু নাহিদ যে শুধু ভালো করেছেন তাই-ই না, বরং তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরে আসছেন। বাংলাদেশের কোনো পেসার বিশ্বমঞ্চে নিজেকে একদম "এক্সপ্রেস পিওর ফাস্ট বোলার" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন সেটাও বিশাল কিছু। "Here comes Nahid rana with his ferocious speed, almost touching 150 km/h"- শুধুমাত্র কোনো একজন বাংলাদেশী ফাস্ট বোলারের বেলায় ধারাভাষ্যকার এমনটা বলবেন, এ যেন যে কোনও বাংলাদেশি দর্শকের জন্যই অন্য রকম গর্বের বিষয়। পিএসএলের মত প্ল্যাটফর্ম নাহিদ কে সেই এলিট টায়ার লিস্টে চোখে আঙুল দিয়ে অন্তত বিশ্বক্রিকেটে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিলো।
শুধুই কি গতি? ক্ষুরধার মস্তিষ্ক না থাকলে গতিও যে মূল্যহীন হয়ে পড়ে! কিন্তু নাহিদ ফাইনাল ম্যাচে বেশ কিছু টেকনিক দেখিয়েছেন যা থেকে মনে হয়েছে ফাস্ট বোলিংয়ের টেকনিক্যাল আর্টটাও রপ্ত করে ফেলেছেন।
নাহিদ তাঁর বোলিং এ একটা "অনিশ্চয়তা ফ্যাক্টর" নিয়ে এসেছেন। ব্যাটসম্যন কে প্রতিমূহূর্ত ভাবাচ্ছেন যে পরের বলটি ইয়র্কার লেন্থ-এ আসবে নাকি প্রচন্ড গতিতে কাঁধ-মাথা বরাবর বাউন্সার আসবে? এবং ওভারের ছয়টি বলের মধ্যে এমনভাবে ইয়র্কার ও বাউন্সারের মিশেল দিয়েছেন যে মাঠে উপস্থিত থাকা বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামও হয়তো নস্টালজিক হয়ে উঠেছিলেন।
ম্যাচের মাঝখানে ওয়াসিম আকরাম তো বলেই দিলেন, নাহিদ এমনভাবে ডিপ মিড অনে ফিল্ডার সেট করেছেন যে ব্যাটসম্যান খানিকটা দ্বিধান্বিত হয়েই ভাববেন যে পরের বলটি ইয়র্কার হওয়ার চান্স বেশি, নাকি বাউন্সার! ব্যাটসম্যান কিন্তু একেবারে সন্দেহমুক্তও হলেন না, পেছনের পা ঠিকই প্রস্তুত রাখলেন বাউন্সার খেলার জন্য। নাহিদ মারলেন কাঁধ বরাবর ১৪৬ গতির বাউন্সার, পরের বলে এবার মারলেন ইয়র্কার- অর্থাৎ ব্যাটসম্যানকে যথেষ্ট গোলকধাঁধায় ফেলার জন্য ফোল্ড চেঞ্জ করে ম্যানিপুলেট করার শিল্পও নাহিদ বেশ ভালভাবেই শিখেছেন।
শেষ কথা চ্যাম্পিয়ন নাহিদ তাঁর কাজ করছেন, কিন্তু চ্যাম্পিয়নকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ নিতে কি প্রস্তুত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড?
রিপোর্ট : ব.মি/জেড.এস
