ATN
শিরোনাম
  •  

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

         
আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

আজ ৩ মে, বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রবাহের অবাধ নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে ১৯৯৩ সাল থেকে দিনটি পালন করে আসছে বিশ্ববাসী। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্ন এখন আরও বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির যুগে সাংবাদিকতা আজ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার, এমনকি প্রাণনাশের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, সত্য প্রকাশের দায়ে প্রতিবছরই ঝুঁকি নিচ্ছেন, হাজারো গণমাধ্যমকর্মী। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, সিপিজির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হয়েছেন। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ৩৩০ জনের বেশি সাংবাদিক কারাবন্দী হয়েছেন।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ কি তাতে বন্ধ হয়েছে? মোটেও না। বরং, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি পূরণের দায়িত্ব যেন আরও চেপে বসেছে। ব্যস্ততা বেড়েছে গণমাধ্যমের; গণমাধ্যম কর্মীদের।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, বরং সত্যকে নির্ভয়ে তুলে ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা। সেটি না থাকলে গণতন্ত্রও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

প্রোপাগাণ্ডার কাজে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা নানা সময়ে হয়েছে, এখনও হয়। নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মত প্রচারে চাপ থাকে নানা পক্ষের। তবে, নেতিবাচক কোনো প্রচেষ্টায় মাথা নত না করে, চেক- রিচেকের মধ্য দিয়ে সত্য প্রচারের নৈতিকতাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সে কাজ ক্রমেই যেন কঠিন করে তুলছে। এছাড়া অ্যালগরিদমের প্রভাব, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন সব মিলিয়ে নতুন বাস্তবতায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।

তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলছেন, শুধু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বিস্তারও প্রকৃত সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং নৈতিক সাংবাদিকতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে তাই আবারও উঠে আসছে একটাই বার্তা, তা হলো: স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করাই টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি।

রিপোর্ট : স. আ/মা. হা
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ