ATN
শিরোনাম
  •  

দুধের শিশু রেখে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া কে এই লড়াকু মা?

         
দুধের শিশু রেখে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া কে এই লড়াকু মা?

দুধের শিশু রেখে বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া কে এই লড়াকু মা?

তীর-ধনুক হাতে যখন তিনি দাঁড়ান, তখন তাঁর লক্ষ্য থাকে বুলস আইয়ের ১০ পয়েন্টের বৃত্তে। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দেশসেরা আর্চার নাসরিন আক্তারের হৃদস্পন্দন যেন মিশে আছে অন্য এক নিশানায়। যার নাম নওরিন জাহান সোহানা—নাসরিনের মাত্র ১৩ মাস বয়সী কন্যা।

বিশ্বকাপের স্টেজ টুয়ে অংশ নিতে ৩ মে চীনের সাংহাই যাচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্চার নাসরিন। কিন্তু এবারের যাত্রাটা প্রতিবারের মতো নয়। এই প্রথম দুধের শিশুকে বাড়িতে রেখে দূরদেশে খেলতে যাচ্ছেন এই লড়াকু মা। যে শিশু এখনো ঠিকমতো কথা বলতেই শেখেনি, যার রাত কাটে মায়ের আঁচল জড়িয়ে, তাকে রেখেই দেশের জন্য লড়তে যাচ্ছেন নাসরিন। মন খারাপ করলেও দেশের জন্যই এই ত্যাগ মেনে নিয়েছেন তিনি। যাওয়ার আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনে এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে নাসরিন বললেন মেয়েকে নিয়ে ভালোবাসার কথা। সন্তান আর স্বপ্ন- এই দুয়ের মাঝে দোদুল্যমান এক মায়ের আবেগ পাশে রেখে পেশাদারিত্ব যেখানে বড় হয়ে উঠল।

ছবি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সেরা আর্চার নাসরিন এর আগে ২০২২ সালে এশিয়া কাপের স্টেজ ওয়ানে জেতেন তিনটি সোনা। মাঝে কিছু দিন খেলা ছেড়ে ছিলেন জাতিসংঘ মিশনে কঙ্গোতে। এরপর সন্তান সম্ভবা হওয়ায় খেলায় ছন্দপতন ঘটে। তবে আবারও সন্তান জন্ম দিয়েই তিনি ফিরে আসেন খেলার টানে।

খেলার মাঠ আর মাতৃত্বের লড়াইটা নাসরিনের জন্য সহজ ছিল না। নওরিন জন্মানোর মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায় মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। ছয় মাস হওয়ার আগেই যোগ দিয়েছিলেন অনুশীলনে। এখনো শিশুটি ব্রেস্ট ফিডিং আর ফর্মুলা দুধের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশে গিয়ে মেয়ের কান্নার শব্দ কানে বাজবে কি না, সেই আশঙ্কায় বুক কাঁপলেও নাসরিন জানেন—তিনি শুধু একজন মা নন, তিনি এই দেশের একজন প্রতিনিধি।

ছবি
নাসরিনের এই ত্যাগ কেবল একটি পদকের জন্য নয়, বরং এই বার্তা দিতে যে—মা হওয়ার পর কোনো স্বপ্নই থেমে যায় না। একদিকে দুধের শিশুর কান্না, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজের বিজয় নিশান ওড়ানোর স্বপ্ন। এ যেন সত্যি অদম্য এক লড়াকু মায়ের গল্প। বিদেশের মাটিতে তিনি জিততে চান পদক।

৩ মাসের নওরিন হয়তো এখনো বোঝে না ওর মা কেন দূরে যাচ্ছে। কিন্তু বড় হয়ে ও নিশ্চয়ই গর্ব করবে এই ভেবে যে—ওর মা কেবল আর্চারির ১০ পয়েন্ট নয়, জিতে নিয়েছেন গোটা বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা।

রিপোর্ট : ব. জা. মি/মা. হা
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট খেলা সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ