কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী: ড. ফাহমিদা খাতুন
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, বাজেটে নীতিগত দিক নির্দেশনা থাকতে হবে। যেহেতু আমাদের সম্পদ সঞ্চালন কম, সে কারণে ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেট হতে হবে। বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণ নেয়। শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যাংক নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সরকার ঋণ নেয়, যা অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী।
শনিবার (০২ মে) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক উৎসগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভ্যাট—ট্যাক্স সাময়িক তুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল থাকলে এর ফলাফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। রোজার মাসে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভ্যাট—ট্যাক্স কমানোতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান আশাব্যাঞ্জক পদক্ষেপ। তবে এর সুফল পেতে উপকারভোগী নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নিম্নবিত্তের জীবনকে সহায়তা করতে ভতুর্কি দেয়া প্রয়োজন। তবে ভতুর্কি লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে। কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনের মতো খাতগুলোতে ভর্তুকি প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের অর্থনীতি একটা কঠিন সময় পার করছে। করোনা মহামারির ধাক্কা, রাশিয়া—ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিগত শাসনামলের অর্থনীতির ক্ষত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের নিম্নহার, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ঋণখেলাপীসহ বৈদেশিক ঋণের চাপ মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে উলট পালট করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ও দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে সরকারের উপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে কিভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহনশীল রাখা যায় তার জন্য রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। এর জন্য সরকার ও বিরোধীদল কেউ কাউকে ব্যর্থ করার চেষ্টা না করে অতীত ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, অন্যদিকে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করা সরকারকে তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে হবে। তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু সময়ের জন্য নিত্যপণ্যের উপর ভ্যাট—ট্যাক্স কমিয়ে ওএমএস এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো উচিত। সামাজিক সুরক্ষা খাতের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি নিমোর্হভাবে অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো আরও ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সংকটকালে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, সাবধানী, টেকসই, সুষম ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। যাতে নিম্ন মধ্যবিত্তের উপর কোন চাপ তৈরি না হয়, জনভোগান্তি না বাড়ে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, বিনিয়োগ বাড়ে ও কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক আবুল কাশেম ও সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
শনিবার (০২ মে) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটে ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক উৎসগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দিতে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভ্যাট—ট্যাক্স সাময়িক তুলে দেওয়া যেতে পারে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল থাকলে এর ফলাফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। রোজার মাসে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভ্যাট—ট্যাক্স কমানোতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলো।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান আশাব্যাঞ্জক পদক্ষেপ। তবে এর সুফল পেতে উপকারভোগী নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। নিম্নবিত্তের জীবনকে সহায়তা করতে ভতুর্কি দেয়া প্রয়োজন। তবে ভতুর্কি লক্ষ্যভিত্তিক হতে হবে। কৃষি, সেচ ও গণপরিবহনের মতো খাতগুলোতে ভর্তুকি প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, দেশের অর্থনীতি একটা কঠিন সময় পার করছে। করোনা মহামারির ধাক্কা, রাশিয়া—ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিগত শাসনামলের অর্থনীতির ক্ষত, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের নিম্নহার, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ঋণখেলাপীসহ বৈদেশিক ঋণের চাপ মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র—ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে উলট পালট করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ও দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতিতে সরকারের উপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে কিভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহনশীল রাখা যায় তার জন্য রাজনৈতিক ঐক্য দরকার। এর জন্য সরকার ও বিরোধীদল কেউ কাউকে ব্যর্থ করার চেষ্টা না করে অতীত ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশ পরিচালনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান বলেন, অন্যদিকে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করা সরকারকে তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে হবে। তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু সময়ের জন্য নিত্যপণ্যের উপর ভ্যাট—ট্যাক্স কমিয়ে ওএমএস এবং টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহ বাড়ানো উচিত। সামাজিক সুরক্ষা খাতের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি নিমোর্হভাবে অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো আরও ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সংকটকালে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, সাবধানী, টেকসই, সুষম ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। যাতে নিম্ন মধ্যবিত্তের উপর কোন চাপ তৈরি না হয়, জনভোগান্তি না বাড়ে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে, বিনিয়োগ বাড়ে ও কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ঢাকা কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে কবি নজরুল সরকারি কলেজের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক আবুল কাশেম ও সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেল। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
