ATN
শিরোনাম
  •  

ফুলবাড়ীতে উন্নত জাতের ধান চাষে সাফল্য, বাসমতিসহ ১২ জাত নিয়ে নতুন সম্ভাবনা

         
ফুলবাড়ীতে উন্নত জাতের ধান চাষে সাফল্য, বাসমতিসহ ১২ জাত নিয়ে নতুন সম্ভাবনা

ফুলবাড়ীতে উন্নত জাতের ধান চাষে সাফল্য, বাসমতিসহ ১২ জাত নিয়ে নতুন সম্ভাবনা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় প্রাণবঙ্গ মিলার্সের উদ্যোগে বাসমতিসহ ১২টি উন্নত জাতের ধান চাষে সাফল্যের দেখা মিলেছে। এসব ধান পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে পাকিস্তানি বাসমতি, ব্ল্যাক রাইসসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন সম্প্রতি এসব প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শন করে জানান, উৎপাদিত ফসলের ফলন ও মান সন্তোষজনক হয়েছে। তিনি এই উদ্যোগকে সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন।

প্রাণবঙ্গ মিলার্সের কৃষিবিদ মো. নওশাদ হোসেন বলেন, বিদেশ থেকে বাসমতি চাল আমদানি কমিয়ে দেশে একই মানের দীর্ঘ-সরু, সুগন্ধি ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্ল্যাক রাইস ও কাটারী ধানের মতো পুষ্টিকর ও সুগন্ধি চাল উৎপাদনের মাধ্যমে চালের বাজারে নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চান তারা। পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ‘ভ্যালু চেইন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা ১২টি উন্নত জাতের ধানের ফলন আশাব্যঞ্জক। এর মধ্যে বাসমতি (পাকিস্তানি ও ভারতীয়) বিশ্বখ্যাত দীর্ঘ ও সুগন্ধি চাল। ব্ল্যাক রাইস (ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া) উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা ক্যানসার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া দেশীয় সুগন্ধি কাটারী ধানও রয়েছে, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রিমিয়াম চাল হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি-ধান-৫০, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪, বাংলামতি এবং আরও দুটি সুগন্ধি মোটা ধানের জাতও এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বীজ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করে প্রথম ধাপে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হচ্ছে। ফলন সন্তোষজনক হলে কৃষক পর্যায়ে বীজ সরবরাহ করে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, দেশে প্রিমিয়াম মানের বাসমতি ও সরু চালের ঘাটতি পূরণ এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

হাবিপ্রবি কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. এটিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের জলবায়ু ও মাটির উপযোগিতা বিবেচনায় এসব উন্নত জাতের ধান সফল হলে ধান উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে সুগন্ধি ও রপ্তানিযোগ্য চাল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শনে জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা জাফর ইকবাল, উপজেলা কৃষিবিদ মো. গফ্ফার আল-হাদী, ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট কৃষি সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ