ATN
শিরোনাম
  •  

বিএনপি নেতার হাতে লাঞ্ছিত নারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

         
বিএনপি নেতার হাতে লাঞ্ছিত নারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

নেতার হাতে লাঞ্ছিত নারী শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে বিএনপি নেতার হাতে লাঞ্ছনার শিকার নারী শিক্ষক আলিয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবির মুখে রোববার এ নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

অভিযোগ উঠেছে, কলেজের অভ্যন্তরীণ নানা অনিয়মের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের একটি অংশ রোববার কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করে আলিয়া খাতুন ও অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের অপসারণ দাবি জানিয়েছেন।

তবে আলিয়া খাতুনের দাবি, কলেজের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত কিছু শিক্ষক হুমকি দিয়ে অন্যদের মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। তিনি বলেন, নির্যাতনের পর এমন পরিস্থিতিতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মুহা. আছাদুজ্জামান জানান, আলিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা হবে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মসজিদ উন্নয়নের জন্য অনুদান চাইতে গিয়ে তর্কের একপর্যায়ে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ওই শিক্ষিকা। পরে তাকে জুতাপেটা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী শাহাদ আলীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার পর অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও আলিয়া খাতুনের অপসারণ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। শনিবার নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ দাবি জানান।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক নিরাপত্তাজনিত কারণে কলেজে যাচ্ছেন না। কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক জানান, অধ্যক্ষ অসুস্থতার কথা জানিয়ে সাময়িকভাবে কলেজের দায়িত্ব তাকে দিয়েছেন এবং পুরো বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

তিনি আরও দাবি করেন, কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছিল, যা শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ