কলাপাড়ায় কিস্তির টাকার জেরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি এনজিও সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে ভুক্তভোগী খাইরুন বেগমের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগমকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে, কিল-ঘুষি এবং তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাইরুন বেগম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে যান। তবে বিদেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো কোনো অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তান ও গর্ভের অনাগত সন্তান নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তার। এর মধ্যেই এনজিও কর্মীরা নিয়মিত কিস্তির টাকা আদায়ে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
তিনি বলেন, কষ্ট করে দুইটি কিস্তি পরিশোধ করলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় এনজিও কর্মীরা বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন। সময় চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী তাকে জোর করে অফিসে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের হুমকি দেন। অসুস্থতার কথা জানালেও তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাইরুন বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে এভাবে মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবারের সদস্যরাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খাইরুনের ভাসুর রফিক মোল্লা বলেন, প্রবাসে থাকা তার ভাই এখনো টাকা পাঠাতে পারেননি, আর সেই কারণেই তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন।
কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আলট্রাসনোগ্রামে ভ্রূণ সুস্থ থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন। তার দাবি, তারা শুধু তাকে অফিসে আসতে বলেছিলেন, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি এবং এসব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে ভুক্তভোগী খাইরুন বেগমের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি কলাপাড়া হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগমকে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে, কিল-ঘুষি এবং তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাইরুন বেগম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে যান। তবে বিদেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো কোনো অর্থ পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তান ও গর্ভের অনাগত সন্তান নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তার। এর মধ্যেই এনজিও কর্মীরা নিয়মিত কিস্তির টাকা আদায়ে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
তিনি বলেন, কষ্ট করে দুইটি কিস্তি পরিশোধ করলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় এনজিও কর্মীরা বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করেন। সময় চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী তাকে জোর করে অফিসে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের হুমকি দেন। অসুস্থতার কথা জানালেও তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খাইরুন বেগমকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে এভাবে মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবারের সদস্যরাও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। খাইরুনের ভাসুর রফিক মোল্লা বলেন, প্রবাসে থাকা তার ভাই এখনো টাকা পাঠাতে পারেননি, আর সেই কারণেই তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন।
কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, গৃহবধূর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আলট্রাসনোগ্রামে ভ্রূণ সুস্থ থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন। তার দাবি, তারা শুধু তাকে অফিসে আসতে বলেছিলেন, কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি এবং এসব অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্ট: এটিএন নিউজ / মা.ই.স
