যে কুসংস্কারে সাদা থেকে হলুদে বদলে গেল ব্রাজিলের জার্সি
মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও ফুটবলে রয়েছে এক বিচিত্র জগৎ-অন্ধবিশ্বাসের জগৎ। বিশ্বের তারকা ফুটবলার থেকে শুরু করে সমর্থকদের কাছে অনেক সময় জয়ের মূলমন্ত্র হয়ে দাঁড়ায় অদ্ভুত সব টোটকা। কিন্তু ব্যক্তিগত এই কুসংস্কার যখন পুরো একটি জাতির ওপর জেঁকে বসে, তখন তা রূপ নেয় এক দীর্ঘকালীন ট্র্যাজেডিতে। যেটা ঘটেছিল ১৯৫০ বিশ্বকাপে। এরপর ব্রাজিল তাদের জার্সি বদলে ফেলতে বাধ্য হয়েছিল!
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও কুসংস্কারের এসব বিশ্বাস বা অভ্যাস আরও ডালপালা মেলে। মাঠের অনিশ্চয়তাকে নিজের মতো করে পরিচালনা করতে ফুটবলাররা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশ থেকে নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে আসেন বিচিত্র সব আচার। এসব কারণে বিশ্বকাপ হয়ে ওঠে আরও বেশি রহস্যময় ও আকর্ষণীয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের এমন শিহরণ জাগানো কুসংস্কারের গল্পের একটি ব্রাজিলের সাদা জার্সির গল্প। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত সাদা জার্সির গল্প ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায়।
মারাকানাজ্জোর স্বপ্নভঙ্গের সেই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫০ সালে। স্বাগতিক ব্রাজিল ফাইনাল রাউন্ডে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু সেই ‘অলিখিত’ ফাইনালে রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ২ লাখ দর্শকের সামনে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। এই হার পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল; এমনকি কেউ কেউ স্টেডিয়াম থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যাও করেছিলেন। ইতিহাসে এই ঘটনাকে 'মারাকানাজ্জো' বা মারাকানা ট্র্যাজেডি বলা হয়।
আর সেই কারণেই সেবার সাদা জার্সিকে 'অভিশপ্ত' ঘোষণা করে ব্রাজিল। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রথাগত জার্সি ছিল সাদা রঙের এবং নীল কলারের । মারাকানা ট্র্যাজেডির পর পুরো দেশে এক অদ্ভুত মানসিকতা তৈরি হয়। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এই সাদা জার্সিটি 'অভিশপ্ত' বা 'অপয়া' এবং এটি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস যোগাতে ব্যর্থ হয়েছে ফেডারেশন এবং জনমনে এই ধারণা এত প্রবল হয় যে তারা চিরতরে সাদা জার্সিটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ।
এরপর শুরু হয় নতুন জার্সির খোঁজে প্রতিযোগিতা। সাদা জার্সিকে ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে সমালোচনা করা হয় কারণ এতে জাতীয় পতাকার কোনো রঙের ছাপ ছিল না । ১৯৫৩ সালে একটি পত্রিকা নতুন জার্সি ডিজাইনের জন্য দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে । শর্ত ছিল একটাই—জাতীয় পতাকার চারটি রঙ -হলুদ, সবুজ, নীল এবং সাদা অবশ্যই থাকতে হবে।
প্রতিযোগিতায় ৩০০টি ডিজাইনকে পেছনে ফেলে জয়ী হন ১৯ বছর বয়সী এক ইলাস্ট্রেটর, অল্ডেমারো এস্তেভাও । তিনি ডিজাইন করেন হলুদ শার্ট, সবুজ ট্রিমসহ। নীল হাফপ্যান্ট। সাদা মোজা।
১৯৫৪ সালের পর থেকে ব্রাজিল তাদের বিখ্যাত হলুদ জার্সি পরে খেলা শুরু করে এবং ১৯৫৮ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। দীর্ঘদিন পর ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকার উদ্বোধনী ম্যাচে ৬৯ বছর পর আবার সেই সাদা জার্সি ফিরিয়ে আনে ব্রাজিল, যেখানে তারা বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারায়। অনেকে মনে করেন, এই জয়ের মাধ্যমে সাদা জার্সির ওপর থাকা সেই পুরোনো 'অভিশাপ' অবশেষে কেটে গেছে।
রিপোর্ট : ব. মি/মা. হা
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেও কুসংস্কারের এসব বিশ্বাস বা অভ্যাস আরও ডালপালা মেলে। মাঠের অনিশ্চয়তাকে নিজের মতো করে পরিচালনা করতে ফুটবলাররা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশ থেকে নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে আসেন বিচিত্র সব আচার। এসব কারণে বিশ্বকাপ হয়ে ওঠে আরও বেশি রহস্যময় ও আকর্ষণীয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের এমন শিহরণ জাগানো কুসংস্কারের গল্পের একটি ব্রাজিলের সাদা জার্সির গল্প। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের সেই অভিশপ্ত সাদা জার্সির গল্প ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজিক এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায়।
মারাকানাজ্জোর স্বপ্নভঙ্গের সেই ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫০ সালে। স্বাগতিক ব্রাজিল ফাইনাল রাউন্ডে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু সেই ‘অলিখিত’ ফাইনালে রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে ২ লাখ দর্শকের সামনে ২-১ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল। এই হার পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল; এমনকি কেউ কেউ স্টেডিয়াম থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যাও করেছিলেন। ইতিহাসে এই ঘটনাকে 'মারাকানাজ্জো' বা মারাকানা ট্র্যাজেডি বলা হয়।
আর সেই কারণেই সেবার সাদা জার্সিকে 'অভিশপ্ত' ঘোষণা করে ব্রাজিল। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রথাগত জার্সি ছিল সাদা রঙের এবং নীল কলারের । মারাকানা ট্র্যাজেডির পর পুরো দেশে এক অদ্ভুত মানসিকতা তৈরি হয়। মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এই সাদা জার্সিটি 'অভিশপ্ত' বা 'অপয়া' এবং এটি খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস যোগাতে ব্যর্থ হয়েছে ফেডারেশন এবং জনমনে এই ধারণা এত প্রবল হয় যে তারা চিরতরে সাদা জার্সিটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ।
এরপর শুরু হয় নতুন জার্সির খোঁজে প্রতিযোগিতা। সাদা জার্সিকে ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে সমালোচনা করা হয় কারণ এতে জাতীয় পতাকার কোনো রঙের ছাপ ছিল না । ১৯৫৩ সালে একটি পত্রিকা নতুন জার্সি ডিজাইনের জন্য দেশব্যাপী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে । শর্ত ছিল একটাই—জাতীয় পতাকার চারটি রঙ -হলুদ, সবুজ, নীল এবং সাদা অবশ্যই থাকতে হবে।
প্রতিযোগিতায় ৩০০টি ডিজাইনকে পেছনে ফেলে জয়ী হন ১৯ বছর বয়সী এক ইলাস্ট্রেটর, অল্ডেমারো এস্তেভাও । তিনি ডিজাইন করেন হলুদ শার্ট, সবুজ ট্রিমসহ। নীল হাফপ্যান্ট। সাদা মোজা।
১৯৫৪ সালের পর থেকে ব্রাজিল তাদের বিখ্যাত হলুদ জার্সি পরে খেলা শুরু করে এবং ১৯৫৮ সালে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। দীর্ঘদিন পর ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকার উদ্বোধনী ম্যাচে ৬৯ বছর পর আবার সেই সাদা জার্সি ফিরিয়ে আনে ব্রাজিল, যেখানে তারা বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে হারায়। অনেকে মনে করেন, এই জয়ের মাধ্যমে সাদা জার্সির ওপর থাকা সেই পুরোনো 'অভিশাপ' অবশেষে কেটে গেছে।
রিপোর্ট : ব. মি/মা. হা
