ঢাবিতে ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি কূটনীতিক
প্রাচ্যের কবি Allama Muhammad Iqbal (রহ.)-এর ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা’ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটগাছের ছায়াতলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সময় ইকবালবিষয়ক পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ইকবালিয়াত আলোচনা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি একাডেমিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা আল্লামা ইকবালের দর্শন, চিন্তাধারা এবং সমসাময়িক বিশ্বে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলাই (সাবেক চেয়ারম্যান, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ (ইরানি কবি ও আলেম) এবং অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী (উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাকির আবু জাফর (কবি), মুহাম্মদ তানিম নওশাদ (লেখক ও গবেষক), ড. ফজলুল হক তুহিন (গবেষক ও কবি), আবদুল কাদের জিলানী (ইকবাল গবেষক) এবং আরিফ সোহেল (প্রতিনিধি, গণবিপ্লবী উদ্যোগ)। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোঃ মহিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আয়োজনগুলোর মধ্যে ছিল ‘ফিকরে ইকবাল’ শীর্ষক গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে ইকবালিয়াত অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, গজল ও কাওয়ালি পরিবেশনা এবং লাইভ কুইজ প্রতিযোগিতা, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের যথাক্রমে ৪,০০০, ৩,০০০ এবং ২,০০০ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম পাঁচজনকে মূল্যবান বই ও সনদ প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আল্লামা ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা বলেন, ইকবাল শুধু পাকিস্তানের কবি নন; তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি, যার কবিতা মুসলিম জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘদিনের দাসত্বে আবদ্ধ জনগণকে সচেতনতা দান করেছে।
অনুষ্ঠানে ইরান থেকে আগত বক্তা ইকবালের কবিতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইকবালের কাব্য শুধু পাকিস্তান নয়, ইরানের জন্যও জাগরণের বার্তা বহন করে। আজ ইরানি জাতি যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে, তার পেছনেও ইকবালের চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা ইরানের তরুণদের জাগ্রত করেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামাজিক ও বিপ্লবী নেতা আরিফ সোহেল বলেন, ইকবালের কবিতা প্রতিটি যুগের বিপ্লবের জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। আজ বাংলাদেশের তরুণরা পূর্ববর্তী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ইকবালের চিন্তা থেকে অর্জিত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ, যা আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছে।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাওসার আবুল উলাই জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইকবালের দর্শন পড়ানো হচ্ছে এবং ‘The Reconstruction of Religious Thought in Islam’ সহ আত্মচেতনা (খুদি) বিষয়ক দর্শনের ওপর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত গবেষণাপত্র রচনা করে।
উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ইকবাল সব সময় মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা, মুসলিম সভ্যতা পুনর্জাগরণ এবং বিভেদ ভুলে ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছেন। আজ মুসলিম উম্মাহ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে নিজেদের পরিচয় হারাচ্ছে, যেখানে আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে ইকবালের দর্শন অনুযায়ী ইসলামী শিক্ষা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণ করার ওপর।
এছাড়া অন্যান্য বক্তারাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইকবালচিন্তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত শ্রোতাদের এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিশুদের জন্য আল্লামা ইকবালের বিখ্যাত দোয়া সুরের সাথে পরিবেশন করে। পাশাপাশি ইকবালের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে University of Dhaka-এর সুপরিচিত কাওয়ালি দল ‘সিলসিলা ব্যান্ড’ ‘খুদি কা সিরে নিহাঁ’ এবং ‘হার লহজা হ্যায় মুমিন কি নই আন নই শান’ প্রভৃতি ইকবালীয় কাওয়ালি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/মা. হা
ইকবালিয়াত আলোচনা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি একাডেমিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা আল্লামা ইকবালের দর্শন, চিন্তাধারা এবং সমসাময়িক বিশ্বে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলাই (সাবেক চেয়ারম্যান, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ (ইরানি কবি ও আলেম) এবং অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী (উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাকির আবু জাফর (কবি), মুহাম্মদ তানিম নওশাদ (লেখক ও গবেষক), ড. ফজলুল হক তুহিন (গবেষক ও কবি), আবদুল কাদের জিলানী (ইকবাল গবেষক) এবং আরিফ সোহেল (প্রতিনিধি, গণবিপ্লবী উদ্যোগ)। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোঃ মহিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য আয়োজনগুলোর মধ্যে ছিল ‘ফিকরে ইকবাল’ শীর্ষক গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে ইকবালিয়াত অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, গজল ও কাওয়ালি পরিবেশনা এবং লাইভ কুইজ প্রতিযোগিতা, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের যথাক্রমে ৪,০০০, ৩,০০০ এবং ২,০০০ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম পাঁচজনকে মূল্যবান বই ও সনদ প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আল্লামা ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা বলেন, ইকবাল শুধু পাকিস্তানের কবি নন; তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি, যার কবিতা মুসলিম জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘদিনের দাসত্বে আবদ্ধ জনগণকে সচেতনতা দান করেছে।
অনুষ্ঠানে ইরান থেকে আগত বক্তা ইকবালের কবিতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইকবালের কাব্য শুধু পাকিস্তান নয়, ইরানের জন্যও জাগরণের বার্তা বহন করে। আজ ইরানি জাতি যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে, তার পেছনেও ইকবালের চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা ইরানের তরুণদের জাগ্রত করেছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সামাজিক ও বিপ্লবী নেতা আরিফ সোহেল বলেন, ইকবালের কবিতা প্রতিটি যুগের বিপ্লবের জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। আজ বাংলাদেশের তরুণরা পূর্ববর্তী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ইকবালের চিন্তা থেকে অর্জিত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ, যা আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছে।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাওসার আবুল উলাই জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইকবালের দর্শন পড়ানো হচ্ছে এবং ‘The Reconstruction of Religious Thought in Islam’ সহ আত্মচেতনা (খুদি) বিষয়ক দর্শনের ওপর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত গবেষণাপত্র রচনা করে।
উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ইকবাল সব সময় মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা, মুসলিম সভ্যতা পুনর্জাগরণ এবং বিভেদ ভুলে ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছেন। আজ মুসলিম উম্মাহ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে নিজেদের পরিচয় হারাচ্ছে, যেখানে আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে ইকবালের দর্শন অনুযায়ী ইসলামী শিক্ষা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণ করার ওপর।
এছাড়া অন্যান্য বক্তারাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইকবালচিন্তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত শ্রোতাদের এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিশুদের জন্য আল্লামা ইকবালের বিখ্যাত দোয়া সুরের সাথে পরিবেশন করে। পাশাপাশি ইকবালের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে University of Dhaka-এর সুপরিচিত কাওয়ালি দল ‘সিলসিলা ব্যান্ড’ ‘খুদি কা সিরে নিহাঁ’ এবং ‘হার লহজা হ্যায় মুমিন কি নই আন নই শান’ প্রভৃতি ইকবালীয় কাওয়ালি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/মা. হা
