ATN
শিরোনাম
  •  

​হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে বুস্টার ডোজ

         
​হামের প্রাদুর্ভাব রোধে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে বুস্টার ডোজ

শিশুদের দেওয়া হচ্ছে বুস্টার ডোজ

দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বিশেষ বুস্টার ডোজের আওতায় আনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন জানিয়েছেন, এই বয়সের শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় তারা আগে টিকা নিয়ে থাকলেও সুরক্ষার স্বার্থে তাদের আবারও এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

​বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। ইউনিসেফের (UNICEF) সহযোগিতায় হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

​সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রোগ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীন বলেন, "হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।"

​কর্মশালার মূল আলোচনা ও বিশেষ দিকসমূহ জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

সভায় আলোচিত মূল বিষয়গুলো হলো:

​সংক্রমণের ঝুঁকি: বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যেখানে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

​টিকার নিরাপত্তা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) আঞ্চলিক প্রতিনিধিরা টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

​গুজব প্রতিরোধ: ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি যেন টিকাদান কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

​মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি (মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট) "আজকের শিশুরাই আগামী দিনের সুনাগরিক। তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় হতে হবে।"

​ড. বিনোদ কুমার বুড়া (আঞ্চলিক আইভিডি কো-অর্ডিনেটর, WHO): তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে হামের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। তিনি সবাইকে নির্ভয়ে টিকাদানে উৎসাহিত করেন।

​ডা. রিয়াদ মাহমুদ (প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইউনিসেফ): তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া হামের মতো রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।

সাংবাদিকদের অঙ্গীকার কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা হাম বিষয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের অঙ্গীকার করেন। বিশেষজ্ঞরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস

পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ