কন্যাশিশু। ফাইল ছবি
আবু সায়েম (ছদ্দনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কিছু বন্ধুদের সঙ্গে মিশে নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত শুরু হয়। এখন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। সম্প্রতি তার মধ্যে নতুন এক আত্মোপলব্ধি সৃষ্টি হয়েছে। একটি ঘটনা তার মনোজগতে নতুন করে ভাবনা জাগ্রত করেছে । ঘটনাটা ছিলো- পুরনো নেশায় সেদিনও তিনি গিয়েছিলেন । মাত্র ১৩ বছর বয়সী শিশুকে যৌনপল্লীতে দেখে এবং তার কান্না আর বাঁচার কাকুতি মিনতি সায়েমের চেতনা জাগ্রত করে। পরবর্তীতে কৌশলে মেয়েটিকে সেই পল্লী থেকে উদ্ধারও করতে পেরেছিলেন। আবু সায়েম প্রতিজ্ঞা করে হোটেল বা নিষিদ্ধ পল্লীতে আর নয়, শিশুদের সঙ্গেও যৌন সম্পর্ক নয়। আবু সায়েম হয়তো সেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে পেরেছেন এবং নিজের অভ্যাস থেকে ফিরতে পেরেছিলো, কিন্তু অন্যরা?
যে বয়সে শিশুরা স্কুলে যাবে, খেলবে, হাসবে সেই বয়সেই তাদের ও ভাসমান শিশুদের ভয়াবহ জীবনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে দেশের যৌন পল্লী ও হোটেলে। তাদের ওপর চলমান যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষার যথাযথ পদক্ষেপ নেই। ফলে শিশুরা বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাংলাদেশে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ বা Commercial Sexual Exploitation of Children (CSEC)-এর ভয়াবহতা কতটা ব্যাপক, সেই উদ্বেগজনক চিত্রই উঠে এসেছে ‘ফ্রিডম ফান্ড এবং ‘পপুলেশন কাউন্সিল’ কর্তৃক প্রকাশিত এক বৃহৎ গবেষণায়। “Through Her Eyes” শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় নারী যৌন কর্মীদের মধ্যে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন (প্রায় ২২ শতাংশ) তাদের শৈশবে এই শোষণের শিকার হয়েছেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলাতেই রাস্তায় থাকা প্রায় ৫,০০০ কন্যাশিশু এবং ঢাকা বিভাগের পতিতালয়গুলোতে প্রায় ৭০০ কন্যাশিশু এই বাণিজ্যিক শোষণের শিকার হচ্ছে। গবেষণায় ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী এমন ১,২৪৫ জন নারী যৌন কর্মীর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়, যারা তাদের ১৭ বছর বয়স থাকাকালীন সময়ের বা তার কম বয়সের অভিজ্ঞতাগুলো স্মরণ করেছেন।
৬৩টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও তিনটি প্রধান পতিতালয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য ফ্রিডম ফান্ড’ পরিচালিতক আরেক গবেষনার তথ্য বলছে , শোষণমূলক ঘটনা পার্ক, টার্মিনাল, নদীবন্দর, সড়কের ধারে এবং পতিতালয়ে ঘটে।
গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ মেয়ে কিশোরী বয়সেই মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি, ভালো কাজের প্রলোভন বা আবেগীয় প্রতারণার মাধ্যমে পাচারকারীদের হাতে পড়ে।
একবার পতিতালয় বা রাস্তাকেন্দ্রিক শোষণের চক্রে ঢুকে গেলে তাদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
গবেষণাকালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলেরা জানায়, তারা প্রতিদিন খাদ্য, নিরাপদ ঘুমের স্থান ও প্রাপ্তবয়স্কদের হয়রানি থেকে বাঁচার লড়াই করে।
দারিদ্র্য ও প্রতারণার শিকার হয়ে পতিতালয় ও এই পথে আসা শিশুদের সপ্তাহে গড়ে ২৪ জনেরও বেশি নির্যাতনকারীর মুখোমুখি হতে হয়!
অন্ধকার এই পথে পা রাখার প্রধান কারণ হলো জীবনের প্রতি পদে দারিদ্র্য আর টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম। জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৮০.১ শতাংশ সরাসরি জানিয়েছেন, টাকা ও জীবনের চরম প্রয়োজনই ছিল তাদের প্রথমবার যৌন শোষণের শিকার হওয়ার মূল কারণ। এছাড়াও দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, শিক্ষাবঞ্চিত হওয়া, গ্রাম থেকে শহরে কাজের খোঁজে আসা এবং প্রতারণার শিকার হওয়া এই চক্র তৈরির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দ্য ফ্রিডম ফান্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ খালেদা আক্তার বলেন, “শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধের জন্য সমাজে বিদ্যমান ক্ষতিকর চিন্তাধারা পরিবর্তন করা অপরিহার্য। এর জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন প্রয়োজন। পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে - সুরক্ষামূলক আচরণ গড়ে তোলা, শিশুদের অধিকার বজায় রাখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে তারা বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে।”
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুসারে,গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৯ মাসে ৯৯৩ জন কন্যাশিশু নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য সংকলিত করে সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। এ সময়ে ৩৫০ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৩ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টা, পাচার, যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্ত, বাল্যবিবাহসহ নানা ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকা ডিজিটাল পরিসর শিশুদের জন্য অনলাইন যৌন শোষণ ও ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক শিশু অনলাইনে যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইল বা সেক্সটোরশনের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘শিশুর প্রতি সহিংসতার বিচার না হওয়াই এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ।কন্যাশিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে যে করণীয় আছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।’
নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক টেরে দেস হোমসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সুপা বড়ুয়া বলেন, আমাদের প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে উন্নয়ন খাতে আমরা শিশুকে কেবল মেয়ে বা নারীদের আলাদা করে না দেখে জেন্ডার ইকুইটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশ্বজুড়ে ছেলেদের সচেতন করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, আশা করি আমাদের দেশেও সে ধারা শক্তিশালী হবে। এখন আমাদের সমস্যার চেয়ে সমাধানের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। বিশেষ করে “ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন” বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগ বা অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আচরণগত পরিবর্তন আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
শিশু যৌন শোষণের চাহিদা কমানোর জন্য ও এ ধরনের কার্যক্রমকে সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক আর নয় এমন স্লোগানের পাশাপাশি যারা শিশুদের নানা কৌশলে এই কাজে বাধ্য করছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
রিপোর্ট : ম.মি/জেড.এস
যে বয়সে শিশুরা স্কুলে যাবে, খেলবে, হাসবে সেই বয়সেই তাদের ও ভাসমান শিশুদের ভয়াবহ জীবনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে দেশের যৌন পল্লী ও হোটেলে। তাদের ওপর চলমান যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষার যথাযথ পদক্ষেপ নেই। ফলে শিশুরা বাণিজ্যিক যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাংলাদেশে শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ বা Commercial Sexual Exploitation of Children (CSEC)-এর ভয়াবহতা কতটা ব্যাপক, সেই উদ্বেগজনক চিত্রই উঠে এসেছে ‘ফ্রিডম ফান্ড এবং ‘পপুলেশন কাউন্সিল’ কর্তৃক প্রকাশিত এক বৃহৎ গবেষণায়। “Through Her Eyes” শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি জানাচ্ছে, ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায় নারী যৌন কর্মীদের মধ্যে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন (প্রায় ২২ শতাংশ) তাদের শৈশবে এই শোষণের শিকার হয়েছেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলাতেই রাস্তায় থাকা প্রায় ৫,০০০ কন্যাশিশু এবং ঢাকা বিভাগের পতিতালয়গুলোতে প্রায় ৭০০ কন্যাশিশু এই বাণিজ্যিক শোষণের শিকার হচ্ছে। গবেষণায় ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী এমন ১,২৪৫ জন নারী যৌন কর্মীর সাক্ষাৎকার নেয়া হয়, যারা তাদের ১৭ বছর বয়স থাকাকালীন সময়ের বা তার কম বয়সের অভিজ্ঞতাগুলো স্মরণ করেছেন।
৬৩টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও তিনটি প্রধান পতিতালয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দ্য ফ্রিডম ফান্ড’ পরিচালিতক আরেক গবেষনার তথ্য বলছে , শোষণমূলক ঘটনা পার্ক, টার্মিনাল, নদীবন্দর, সড়কের ধারে এবং পতিতালয়ে ঘটে।
গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ মেয়ে কিশোরী বয়সেই মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি, ভালো কাজের প্রলোভন বা আবেগীয় প্রতারণার মাধ্যমে পাচারকারীদের হাতে পড়ে।
একবার পতিতালয় বা রাস্তাকেন্দ্রিক শোষণের চক্রে ঢুকে গেলে তাদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
গবেষণাকালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলেরা জানায়, তারা প্রতিদিন খাদ্য, নিরাপদ ঘুমের স্থান ও প্রাপ্তবয়স্কদের হয়রানি থেকে বাঁচার লড়াই করে।
দারিদ্র্য ও প্রতারণার শিকার হয়ে পতিতালয় ও এই পথে আসা শিশুদের সপ্তাহে গড়ে ২৪ জনেরও বেশি নির্যাতনকারীর মুখোমুখি হতে হয়!
অন্ধকার এই পথে পা রাখার প্রধান কারণ হলো জীবনের প্রতি পদে দারিদ্র্য আর টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম। জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৮০.১ শতাংশ সরাসরি জানিয়েছেন, টাকা ও জীবনের চরম প্রয়োজনই ছিল তাদের প্রথমবার যৌন শোষণের শিকার হওয়ার মূল কারণ। এছাড়াও দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, শিক্ষাবঞ্চিত হওয়া, গ্রাম থেকে শহরে কাজের খোঁজে আসা এবং প্রতারণার শিকার হওয়া এই চক্র তৈরির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
দ্য ফ্রিডম ফান্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ খালেদা আক্তার বলেন, “শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধের জন্য সমাজে বিদ্যমান ক্ষতিকর চিন্তাধারা পরিবর্তন করা অপরিহার্য। এর জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন প্রয়োজন। পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে - সুরক্ষামূলক আচরণ গড়ে তোলা, শিশুদের অধিকার বজায় রাখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, যাতে তারা বাণিজ্যিক যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারে।”
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুসারে,গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৯ মাসে ৯৯৩ জন কন্যাশিশু নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য সংকলিত করে সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে। এ সময়ে ৩৫০ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৩ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টা, পাচার, যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্ত, বাল্যবিবাহসহ নানা ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকা ডিজিটাল পরিসর শিশুদের জন্য অনলাইন যৌন শোষণ ও ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক শিশু অনলাইনে যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইল বা সেক্সটোরশনের শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘শিশুর প্রতি সহিংসতার বিচার না হওয়াই এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ।কন্যাশিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে যে করণীয় আছে, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত।’
নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক টেরে দেস হোমসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সুপা বড়ুয়া বলেন, আমাদের প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে উন্নয়ন খাতে আমরা শিশুকে কেবল মেয়ে বা নারীদের আলাদা করে না দেখে জেন্ডার ইকুইটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশ্বজুড়ে ছেলেদের সচেতন করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, আশা করি আমাদের দেশেও সে ধারা শক্তিশালী হবে। এখন আমাদের সমস্যার চেয়ে সমাধানের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। বিশেষ করে “ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন” বাস্তবায়নের এখনই উপযুক্ত সময়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিশুদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগ বা অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আচরণগত পরিবর্তন আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
শিশু যৌন শোষণের চাহিদা কমানোর জন্য ও এ ধরনের কার্যক্রমকে সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক আর নয় এমন স্লোগানের পাশাপাশি যারা শিশুদের নানা কৌশলে এই কাজে বাধ্য করছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
রিপোর্ট : ম.মি/জেড.এস
