ATN
শিরোনাম
  •  

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সংক্ষিপ্ত জীবনী

         
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সংক্ষিপ্ত জীবনী

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সংক্ষিপ্ত জীবনী

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। আর তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হিসেবে ছিলেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন তিনি।

১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর আলী খামেনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি সংগঠিত করতে সহায়তা করেন। ১৯৮৯ সালের জুনে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি মারা গেলে বিশেষজ্ঞ ও ধর্মযাজকদের একটি পরিষদ আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। সংবিধান পরিবর্তন করে তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়।

আয়াতুল্লাহ খামেনি তখন থেকেই ইরানের রাজনীতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিলেন। তিনি বারবার ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কঠোর মনোভাব ছিল খামেনির। বিশেষ করে পরমাণু ইস্যুতে দিনকে দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। খামেনির শাসনামলে ইরানের সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফও ছিলেন। এছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হতো। এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কিনা অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কিনা, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি দেন।

গত দুই সপ্তাহে ধরে চলা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতাসহ বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।

আর গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানের বাসভবনে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা। হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাই এবং নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় ৪০ দিনের গণশোক ও ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে ইরান সরকার।

এর আগে, খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের একজন, মারা গেছেন।

একই দাবি করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আকস্মিক শক্তিশালী হামলায় খামেনির তেহরানের বাসভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আর বেঁচে নেই।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/ মা.হা
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ