ATN
শিরোনাম
  •  

নরসিংদীতে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে হত্যা

         
নরসিংদীতে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে হত্যা

নরসিংদীতে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে হত্যা

নরসিংদী জেলার নরসিংদীতে কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়াকে কেন্দ্র করে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দির মাঝামাঝি একটি সরিষা খেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কিশোরী মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত। তার বাবা একটি বস্ত্র কারখানার শ্রমিক।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে ওই কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, তখন তাকে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর শরণাপন্ন হয়। তবে তারা কোনো বিচার পাননি; উল্টো এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের দাবি, অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নূরা ও তার সহযোগীরা। বুধবার রাত ৮টার দিকে বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে রওনা হন। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তরুণ কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান মেলেনি।

বৃহস্পতিবার সকালে বিলপাড় ও দড়িকান্দির মাঝামাঝি একটি সরিষা খেতে স্থানীয়রা কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের বাবা বলেন, “নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন আমার কাছ থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে আর তাকে খুঁজে পাইনি। সকালে জানতে পারি, তার মরদেহ পড়ে আছে। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কিশোরীর বড় ভাই অভিযোগ করেন, সাবেক ইউপি সদস্য মীমাংসার আশ্বাস দিলেও পরে এলাকা ছাড়ার কথা বলেন। বুধবার রাতে তাদের সামনে থেকেই কিশোরীকে তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর অভিযুক্ত নূরাসহ সংশ্লিষ্টরা পলাতক রয়েছেন। সাবেক ইউপি সদস্যকেও এলাকায় পাওয়া যায়নি; তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে একটি প্রেমঘটিত সম্পর্কের বিষয় সামনে এসেছে। তবে পরিবার তা মেনে নেয়নি বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার পর সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/জেড.এস

পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ