ATN
শিরোনাম
  •  

‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হলে কষ্ট তো হবেই’—ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

         
‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হলে কষ্ট তো হবেই’—ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘দখল করা ব্যাংক বেদখল হলে কষ্ট তো হবেই’—ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এ সময় কারও নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একবার দখল করা ব্যাংক বেদখল হয়ে গেলে যাদের কষ্ট হচ্ছে, সেই যাতনা তিনি বুঝতে পারেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী নোটিশটি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।

আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে, আপনারা ব্যাংকের মালিক নন। আবার বলা হচ্ছে ইসলামের ওপর হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলও ইসলাম নয়। একবার যে ব্যাংক আজান ও তাকবিরের মাধ্যমে দখল করা হয়েছিল, সেটি বেদখল হয়ে গেলে কষ্ট হওয়াটা স্বাভাবিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ আগস্টের পর আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে তার দাবি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকার এলসির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়, কিন্তু পরে সেই অর্থ ব্যাংকে ফেরত আসেনি। এ অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে বলে জনমুখে আলোচনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নাবিল গ্রুপের মোট ব্যাংক দায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া একটি গ্রুপকে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে এসব ব্যয়েরও তদন্তের কথা জানান।

চাকরি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যাংকটি দখলের পর প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই সময়ে প্রায় ৬ হাজার নতুন নিয়োগ এবং ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়, যার অনেকগুলোই প্রচলিত নিয়মের বাইরে ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এসব অনিয়মের তদন্ত হলে অনেকের নাম সামনে আসতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেয়ার কীভাবে কেনা হয়েছে, সেটি আলাদা তদন্তের বিষয় হতে পারে। তবে বর্তমানে যারা শেয়ারধারী, তারা আইনগতভাবে শেয়ারহোল্ডার। এ বিষয়ে দুদক তদন্ত করতে পারে এবং প্রয়োজনে মামলাও হতে পারে।

বিরোধী দলের ‘শেয়ার ডাকাতি’ অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান ব্লক মার্কেটে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করেছে। বর্তমান মালিকানা কাঠামোয় একটি গ্রুপের হাতে প্রায় ৮১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈধ ও প্রকৃত শেয়ারধারীদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কারা কত শতাংশ শেয়ারের মালিক, সেই তথ্যও প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিদেশে অর্থ পাচারের সব অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে তদন্ত হওয়া উচিত এবং যারা জনগণের অর্থ বিদেশে সরিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বর্তমানে কোনো তদন্তও চলমান নেই। তবে নতুন কোনো অভিযোগ এলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে।

রিপোর্ট: এটিএন নিউজ
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট জাতীয় সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ