ATN
শিরোনাম
  •  

ভূমিকম্পে হেলেপড়া সাততলা ভবন খালি করার নির্দেশ, তবু থাকছেন বাসিন্দারা

         
ভূমিকম্পে হেলেপড়া সাততলা ভবন খালি করার নির্দেশ, তবু থাকছেন বাসিন্দারা

ভূমিকম্পে হেলেপড়া সাততলা ভবন খালি করার নির্দেশ, তবু থাকছেন বাসিন্দারা

সম্প্রতি ভূমিকম্পে ঢাকার কেরানীগঞ্জে জিনজিরা ফেরিঘাট সংলগ্ন লছমনগঞ্জ এলাকার একটি সাততলা ভবন হেলে পড়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর ভবনটি পাশের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের দিকে কাত হয়ে পড়ে। এরপর রাতেই প্রশাসন মাইকিং করে বাসিন্দাদের অবিলম্বে ভবন ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

তবে ভবনমালিক নির্দেশ মানছেন না, ফলে এখনো ১৩টি ফ্ল্যাটের পরিবারগুলো ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন। নতুন করে বাসা ভাড়া দেয়ার জন্য মালিকের নাম্বারসহ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন।

ভূমিকম্পের পরদিন শনিবার বিকেলে গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) ঢাকা জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ভবনটি কতটা হেলে পড়েছে তার পরিমাপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলকে জানানো হবে। তাদের মতামত পাওয়ার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ রঙের সাততলা এ ভবনটি ভুট্টু মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের ওপরের দিকে দৃশ্যমানভাবে হেলে আছে। প্রতিনিয়ত ভবনের চারপাশে কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন। এদিকে ভবনের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সামসু নামের এক ভাড়াটিয়া বলেন, ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে নিচে নেমে যাই। বাইরে এসে দেখি ভবনটা কাত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো অন্য কোথাও বাড়ি না পাওয়ায় এখানেই থাকতে হচ্ছে।

অন্য এক বাসিন্দা জানান, শনিবার রাতে প্রশাসন বাসা ছাড়তে বলেছে, কিন্তু বাড়িওয়ালা বলেছেন— সমস্যা নেই, তোমরা থাকো। এতে আমরা আরও বিভ্রান্ত হচ্ছি।

হেলে পড়া ভবনের সবশেষ নির্দেশনা জানতে জিনজিরা ইউনিয়নের প্রশাসক (উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা) সিবলি সাদিক মুঠোফোনে জানান, বর্তমানে হেলে পড়া ভবনটিতে বসবাস ঝুকিপূর্ণ । ভবনটি রাজউকের নকশা মেনে করা হয়েছিল কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজউককে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া, হায়ার অথরিটি ভবনটি পরিদর্শন করেছেন তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে ভবনটির মালিক আবদুর সাত্তার মিয়া বলেন, ভূমিকম্পের পর থেকে কিছু লোক ইচ্ছে করে গুজব ছড়াচ্ছে। আমার ভবনে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ইঞ্জিনিয়ার এনে পরিমাপ করিয়েছি, রিপোর্ট এখনো পাইনি।

এ সময় তিনি প্রশাসনের নির্দেশকে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ বলে দাবি করেন এবং ভবনটি নিরাপদ বলেই মন্তব্য করেন।

এলাকার পর্যবেক্ষণ, বিশেষজ্ঞদের পরিমাপ এবং প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও বিকল্প বাসা না পাওয়ায় ভাড়াটিয়ারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভবনেই অবস্থান করছেন। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/মা.ই.স
পাঠকের মন্তব্য

সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সংবাদ


অন্যান্য সংবাদ