ভূমিকম্প— শুনলেই সবার আগে প্রশ্ন জাগে, এর মাত্রা কত? এ ক্ষেত্রে প্রায়ই দুটো শব্দ শোনা যায়— মাত্রা এবং তীব্রতা। এই দু'টো শব্দের মধ্যে পার্থক্য কী এবং বিজ্ঞানীরা কোন মানদণ্ডে ভূমিকম্পের পরিমাপ করেন?
ভূমিকম্প পরিমাপের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল এর মাত্রা নির্ণয়। একটি ভূমিকম্পের মাত্রা সব জায়গায় একই থাকে। আর তীব্রতা হলো ভূমিকম্পের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে কতোটা ঝাঁকুনি এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হলো, তার পরিমাপ। তীব্রতার মান স্থানভেদে বদলায়।
ভূমিকম্পের শক্তি পরিমাপের জন্য সবচেয়ে পরিচিত ও পুরনো পদ্ধতি হলো রিখটার স্কেল। উনিশশো ত্রিশের দশকে চার্লস রিখটার এই স্কেল তৈরি করেছিলেন। ইউনাইটেড স্টেটস জিওগ্রাফিক্যাল সার্ভে- USGS এর মতে, রিখটার স্কেল শুধু নির্দিষ্ট দূরত্ব ও ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষেত্রেই কার্যকর। ফলে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে বা বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এটি সঠিক পরিমাপ দিতে পারে না।
তাই আরও নিখুঁত পরিমাপের জন্য ব্যবহার হয় মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড বা MM স্কেল। এটি হলো ভূমিকম্পের উৎসে ঠিক কতোটা শক্তি নির্গত হলো, তার পরিমাপ। ভূগর্ভে ভূকম্পনের কেন্দ্র বা হাইপোসেন্টার থেকে যে শক্তি নির্গত হয়, তা সিসমিক স্টেশনগুলোর নেটওয়ার্কে ধরা পড়ে। এ স্কেল যে কোনো আকারের ভূমিকম্প, বিশেষত বড়গুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ দেয়। এই স্কেলে এক একক পূর্ণ সংখ্যা বাড়লে ভূকম্পন প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। যেমন ৪ মাত্রার চেয়ে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ১০ গুণ বেশি ঝাঁকুনি সৃষ্টি করে।
এছাড়া, ঝাঁকুনির তীব্রতার সাথে ক্ষয়ক্ষতির অনুপাতভিত্তিক আরেকটি পরিমাপ হলো মোডিফাইড মারক্যালি ইন্টেনসিটি স্কেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২.৫ বা তার কম মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত অনুভূত হয় না, শুধু যন্ত্রে ধরা পড়ে। ২.৫ থেকে ৫.৪ মাত্রার কম্পন সামান্য ক্ষতি করে। ৫.৫ থেকে ৬ মাত্রায় ক্ষতি হতে পারে মাঝারি রকম। ৬.১ থেকে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে জনবহুল এলাকাগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৭ থেকে ৭.৯ হলে বড় ভূমিকম্প এবং ৮ বা তার বেশি ভয়াবহ ভূমিকম্প। এর ফলে কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে, চিলিতে। যার মাত্রা ছিল ৯.৫। ১১ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা এই 'মেগাকোয়েক' বিশ্বজুড়ে সুনামি তৈরি করেছিল। তবে কম্পনের ব্যাপকতার তুলনায় প্রাণহানি ছিলো উল্লেখযোগ্য রকম কম।
শুক্র ও শনিবার-- মাত্র ৩২ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশেও তিনবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.৫ থেকে ৬ মাত্রার কম্পনই ঘনবসতিপূর্ণ এদেশে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/মা.ই.স
ভূমিকম্প পরিমাপের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হল এর মাত্রা নির্ণয়। একটি ভূমিকম্পের মাত্রা সব জায়গায় একই থাকে। আর তীব্রতা হলো ভূমিকম্পের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে কতোটা ঝাঁকুনি এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হলো, তার পরিমাপ। তীব্রতার মান স্থানভেদে বদলায়।
ভূমিকম্পের শক্তি পরিমাপের জন্য সবচেয়ে পরিচিত ও পুরনো পদ্ধতি হলো রিখটার স্কেল। উনিশশো ত্রিশের দশকে চার্লস রিখটার এই স্কেল তৈরি করেছিলেন। ইউনাইটেড স্টেটস জিওগ্রাফিক্যাল সার্ভে- USGS এর মতে, রিখটার স্কেল শুধু নির্দিষ্ট দূরত্ব ও ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষেত্রেই কার্যকর। ফলে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে বা বড় ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এটি সঠিক পরিমাপ দিতে পারে না।
তাই আরও নিখুঁত পরিমাপের জন্য ব্যবহার হয় মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড বা MM স্কেল। এটি হলো ভূমিকম্পের উৎসে ঠিক কতোটা শক্তি নির্গত হলো, তার পরিমাপ। ভূগর্ভে ভূকম্পনের কেন্দ্র বা হাইপোসেন্টার থেকে যে শক্তি নির্গত হয়, তা সিসমিক স্টেশনগুলোর নেটওয়ার্কে ধরা পড়ে। এ স্কেল যে কোনো আকারের ভূমিকম্প, বিশেষত বড়গুলোর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ দেয়। এই স্কেলে এক একক পূর্ণ সংখ্যা বাড়লে ভূকম্পন প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। যেমন ৪ মাত্রার চেয়ে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প ১০ গুণ বেশি ঝাঁকুনি সৃষ্টি করে।
এছাড়া, ঝাঁকুনির তীব্রতার সাথে ক্ষয়ক্ষতির অনুপাতভিত্তিক আরেকটি পরিমাপ হলো মোডিফাইড মারক্যালি ইন্টেনসিটি স্কেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২.৫ বা তার কম মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত অনুভূত হয় না, শুধু যন্ত্রে ধরা পড়ে। ২.৫ থেকে ৫.৪ মাত্রার কম্পন সামান্য ক্ষতি করে। ৫.৫ থেকে ৬ মাত্রায় ক্ষতি হতে পারে মাঝারি রকম। ৬.১ থেকে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে জনবহুল এলাকাগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৭ থেকে ৭.৯ হলে বড় ভূমিকম্প এবং ৮ বা তার বেশি ভয়াবহ ভূমিকম্প। এর ফলে কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এখন পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি হয়েছিল ১৯৬০ সালে, চিলিতে। যার মাত্রা ছিল ৯.৫। ১১ মিনিটের বেশি সময় ধরে চলা এই 'মেগাকোয়েক' বিশ্বজুড়ে সুনামি তৈরি করেছিল। তবে কম্পনের ব্যাপকতার তুলনায় প্রাণহানি ছিলো উল্লেখযোগ্য রকম কম।
শুক্র ও শনিবার-- মাত্র ৩২ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশেও তিনবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫.৫ থেকে ৬ মাত্রার কম্পনই ঘনবসতিপূর্ণ এদেশে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/মা.ই.স
